
নিজের কর্মীদের কাজ দেখিয়ে দিচ্ছেন বিশ্বজিৎ বড়ুয়া। ছবি: জুয়েল শীল
কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার কারণে প্রোগ্রামিং রপ্ত করাই ছিল। কিন্তু তাতে ঠিক মন বসছিল না বিশ্বজিৎ বড়ুয়ার। ঝোঁক ছিল সফটওয়্যার তৈরির দিকে। নতুন কিছু করার ইচ্ছা পেয়ে বসেছিল। তার জন্য উৎকৃষ্ট ক্ষেত্রও পেয়ে গেলেন—আউটসোর্সিং। দুইয়ে মিলে ধরা দিল সাফল্য। এখন চাকরি-বাকরি বাদ দিয়ে বনে গেছেন পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা। গড়ে তুলেছেন কম্পিউটার সফটওয়্যার মুঠোফোনের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘লাসান টেকনোলজি বাংলাদেশ’।
মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিশ্বজিতের এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে কিন্তু দীর্ঘ কোনো পথ পাড়ি দিতে হয়নি। শুধু ছিল নিজের অদম্য ইচ্ছা আর চাকরি ছাড়ার সাহস। তবে শুরুটা ছিল শূন্য হাতে। এরপর ধীরে ধীরে বেড়েছে পুঁজি। এখন প্রতি মাসে আয় হচ্ছে গড়ে সাত হাজার ডলার (প্রায় ছয় লাখ টাকা)।
সেই গল্প শুনতে ২৮ মার্চ আমরা হাজির হই লাসান টেকনোলজিতে। চট্টগ্রাম নগরের কাপাসগোলা এলাকায় তিন ঘরের ছোট্ট অফিস তাঁর। তিনি ছাড়াও কাজ করেন আরও নয়জন। লাসান টেকনোলজির শুরু ২০১৫ সালের এপ্রিলে। প্রথম দিকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নের সারথি হিসেবে পান পাঁচজনকে। কাজের ক্ষেত্রের সঙ্গে বেড়েছে কর্মীসংখ্যা।
শুরু হলো কাজ পাওয়া
বিশ্বজিৎ ২০১২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিজিসি ট্রাস্ট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরিতে ঢোকেন। দুই বছর চাকরি করেন। এর ফাঁকে আউটসোর্সিংয়ের অনলাইন বাজারে (মার্কেটপ্লেস) ঢুঁ মারতেন। একদিন একটি কাজও পেলেন। সেটি ছিল ওয়েব ডিজাইনের। কাজটি করে পান ৬০ ডলারের মতো। এরপর ছয়-সাত মাস কোনো কাজ ছিল না। তবে চেষ্টা ধরে রেখেছিলেন। এরপর কাজ পেলেন সফটওয়্যার তৈরির। দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন সেই কাজ। এর মধ্যে নিজে কিছু করার জন্য চাকরিও ছেড়ে দেন। পুরোদমে মনোযোগ দেন আউটসোর্সিংয়ে।
চাকরি ছাড়া সহজ ছিল না
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল। চাকরি ছাড়ার কথা শুনে মা–বাবা শুরুর দিকে নাখোশ ছিলেন। পরে আমি বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আমার আরেকটি ভালো দিক ছিল চাকরি ছাড়ার পর আউটসোর্সিংয়ের আয় বেড়েছে। মাসে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার আয় হচ্ছিল। এভাবে আয় বাড়ায় নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে মনোবল পাই।’
লাসান টেকনোলজি মূলত কাজ করে কম্পিউটার সফটওয়্যার ও স্মার্টফোনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরির। ইউরোপের আইসল্যান্ড ও ফ্রান্স এবং আমেরিকার কয়েকটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাজ করেন তাঁরা। তবে কাজ বেশি আইসল্যান্ড ও ফ্রান্সে।
জনপ্রিয় হলো জিব্বি
লাসান টেকনোলজির বানানো একটি সফটওয়্যার বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেটি হলো জিব্বি (Jibby)। এটি মূলত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার অ্যাপ। কর্মীদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া ও আদায় করার অ্যাপ এটি। মুঠোফোন ও ল্যাপটপের মাধ্যমে এটি অপারেট করা যায়। এ ছাড়া টাইম টেকার (চাকরিজীবীদের দৈনিক হাজিরা) ও হিসাবসংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছে ৪৫টি অ্যাপ হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব অ্যাপের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আউটসোর্সিং সহজ নয়
নতুন যাঁরা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ে কাজ পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। এ জন্য কাজ খোঁজার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। দক্ষতা অর্জন করতে হবে নিজেকেও। শুরুটা করা যায় ওয়েব ডিজাইন দিয়ে। কারণ, এতে কাজ পাওয়া কিছুটা সহজ। মাথায় রাখতে হবে আপনি সারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে কাজটি করছেন। এ ক্ষেত্রে কাজের মানও হতে হবে বিশ্ব মানের।’
Caesars Palace (Macau) - Mapyro
ReplyDeleteThis is a map showing Caesars Palace, Macau. It can 남원 출장샵 be found on the Macau 여수 출장샵 Turnpike as 과천 출장마사지 well as other tourist 김포 출장마사지 sites in Macau. The 양산 출장안마 map is showing the