সেনা হত্যাকারী কে এই আদিল?
‘‘আমার নাম আদিল৷ এক বছর আগে জৈশ জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিই৷ এক বছরের প্রতীক্ষা শেষ৷ যে কারণে জৈশ সংগঠনে যোগ দিয়েছি তা এবার পূরণ হতে চলেছে৷ এই ভিডিও যতক্ষণে আপনাদের কাছে পৌঁছবে ততক্ষণে আমি জন্নতে পৌঁছে যাব৷ কাশ্মীরবাসীর কাছে এটাই আমার শেষ বার্তা৷’’
এই ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আগে সব চ্যানেলে বড় বড় করে চলছে ব্রেকিং নিউজ৷ ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ ৪০ জনের বেশি জওয়ান৷ জঙ্গি হামলার খবরে কেঁপে উঠেছে আসমুদ্রহিমাচল৷ ক্ষোভে ফুসছে গোটা দেশ৷ চাইছে বদলা৷ বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের মাটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার নেপথ্যে উঠে এসেছে জৈশ জঙ্গি আদিল আহমেদের নাম৷ বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে সিআরপিএফের কনভয়ে ধাক্কা মারে সে৷ নিমেষে প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা৷ বাসের ভেতর থাকা ৪০ জনের বেশি জওয়ান শহিদ হন৷ মারা যায় জৈশ জঙ্গি আদিলও৷
কাশ্মীরের অবন্তীপোরার ফিঁদায়ে হামলার জন্য আদিল আহমেদকে বেছে নেয় জঙ্গি সংগঠন জৈশ৷ তার আগে এই হামলার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তাকে৷ জৈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনে সি ক্যাটাগরির সন্ত্রাসবাদী ছিল আদিল৷ বৃহস্পতিবার যেখানে হামলা হয় তার ঠিক ১০ কিমি দূরে তার বাড়ি৷ জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করত সে৷ তার বাবার একটি ছোট দোকান আছে গুন্ডিবাগে৷ ২০১৮ সালের মার্চে সে তওসিফ ও ওয়াসিম নামে
দুই বন্ধুর সঙ্গে উধাও হয়ে যায়। কিছুদিন পরেই তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় জইশ
কমান্ডার ওয়াকাশ কমান্ডো হিসেবে। হাতে একে ৪৭ ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র। তারপর এতদিনে
তার ফের আবির্ভাব।
ইন্ডিয়া টুডের
খবর, আত্মঘাতী হামলাকারী আদিলের বাবা গুললাম দাবি করেন, তিন বছর আগে ২০১৬ সালে তার
সন্তান (আদিল) বন্ধুদের সাথে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় সৈন্য তাদের প্রহার করে।
আদিলের পরিবারেও জঙ্গি যোগ পাওয়া গিয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার এক আত্মীয় জৈশ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিল৷ ২০১৬ সালে এনকাউন্টারে মারা যায় সে৷ তার ঠিক দু’বছর পর একাদশ শ্রেণি ড্রপআউট আদিল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়৷ নাম লেখায় জাকির মুসার গজওয়াট-উল-হিন্দে৷ সেখান থেকে শুরু হয় সন্ত্রাসের জগতে উত্থান৷ এরপর আদিল জৈশ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে৷ নতুন নাম নেয় ওয়াকাস কমান্ডো৷ তার সঙ্গে লস্কর ও হিজবুল জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল৷
টাইমস অব
ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হামলার পেছনে রয়েছে এক আফগান জঙ্গি। নাম আবদুল
রশিদ গাজি। সে আইইডি বিশেষজ্ঞ। গোয়েন্দাদের অনুমান ডিসেম্বর মাসেই হামলার ছক কষা হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার হামলার পরই আদিল আহমেদ দারের একটি ভিডিও প্রকাশিত
হয়। সেখানে সে বলেছে পুলওয়ামা হামলা করা হয়েছে মাসুদ আজহারের ভাইপোর মৃত্যুর প্রতিশোধ
নিতে।



No comments